গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে ব্যবসায়ীরা

পোশাকে ৬ হাজার ও টেক্সটাইল খাতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ বাড়বে

শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বাড়লে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টগুলোয় বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বাড়লে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টগুলোয় বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এতে শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি এসব তথ্য জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন এ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার শিল্প খাতে গ্যাসের মূল্য পুনরায় বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে, যা প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৭৫ টাকা করা হতে পারে। এরূপ মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হলে তা শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আঙ্কটাড প্রকাশিত গ্লোবাল ট্রেড আপডেট প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে পোশাক আমদানি ৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমাদের শিল্পে, বিশেষ করে রফতানি মূল্যের ওপর।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ ছিল ২৫ হাজার ৯৪৭ এমএমসিএম, যার ১৮ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে শিল্প খাতগুলোয়। শিল্পে ব্যবহৃত মোট গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ হয় পোশাক খাতে, সে হিসাবে এ শিল্পের বার্ষিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৪০০ এমএমসিএম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাসের এ ব্যবহারের মধ্যে মূল্য যদি প্রতি ঘনমিটারে ৪৫ টাকা বৃদ্ধি পায়, তবে এ খাতে বার্ষিক অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা খরচ বাড়বে, যা রফতানি আয়ের প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ। পাশাপাশি টেক্সটাইল শিল্পের ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টগুলো দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ ব্যবহার করে, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ২ হাজার ৫৯৫ এমএমসিএম। ৪৫ টাকা হারে মূল্য বাড়ানো হলে টেক্সটাইল শিল্পের ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টগুলোকে বছরে প্রায় অতিরিক্ত ১১ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা খরচ বহন করতে হবে, যা বার্ষিক পোশাক রফতানি আয়ের প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিজিএমইএর প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল ও বিটিটিএলএমইএর চেয়ারম্যান হোসেন মেহমুদ।

আরও